মৃত ঘোষণা করার পর অস্ত্রোপচারের টেবিলে চোখ খুললেন যুবক!
মৃত ঘোষণার পর ওটি টেবিলে প্রাণ ফেরা! কেনটাকির ঘটনায় তোলপাড় চিকিৎসা বিশ্ব
আমেরিকার কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও শিহরণ জাগানো ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের দ্বারা ‘ব্রেইন ডেড’ বা মস্তিষ্ক মৃত বলে ঘোষিত এক ব্যক্তি অঙ্গদান প্রক্রিয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে জীবন ফিরে পেয়েছেন। হলিউডের থ্রিলার মুভিকেও হার মানানো এই ঘটনায় চিকিৎসাসেবার নৈতিকতা ও রোগী সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভুল রোগ নির্ণয় ও মৃত্যুর বিভীষিকা
অ্যান্থনি থমাস ‘ডিজে’ হুভার নামের ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কেনটাকির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেইন ডেড’ ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা শোক সামলে প্রিয়জনের অঙ্গদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন বাঁচানোর মহৎ সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম মেনে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর পরই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অ্যান্থনি বিছানায় নড়াচড়া করতে শুরু করেন এবং তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের অমানবিক অবস্থান ও কর্মীদের প্রতিবাদ
সেখানে উপস্থিত হাসপাতালের কর্মী নাতাশা মিলার জানান, অ্যান্থনি যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন উপস্থিত কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বিস্ময়করভাবে অঙ্গ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এমনকি প্রয়োজনে অ্যান্থনিকে পুনরায় অচেতন করে অন্য সার্জন দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক ও অনৈতিক নির্দেশনার প্রতিবাদে কর্মরত বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও তদন্ত
অ্যান্থনির বোন ডোনা জানিয়েছেন, আইসিইউ থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময়ই তিনি তার ভাইয়ের চোখের পাতা নড়তে দেখেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা তখন সেটিকে কেবল শরীরবৃত্তীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা ‘বডি রিফ্লেক্স’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সৌভাগ্যবশত অ্যান্থনি বর্তমানে বেঁচে আছেন। একজন জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করে অঙ্গ সংগ্রহের এই মরিয়া প্রচেষ্টা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: ব্রেইন ডেড ঘোষিত ব্যক্তির অপারেশন থিয়েটারে বেঁচে ফেরা।
- স্থান: কেনটাকি, আমেরিকা।
- ভুক্তভোগী: অ্যান্থনি থমাস ‘ডিজে’ হুভার।
- মূল কারণ: চিকিৎসকদের ভুল রোগ নির্ণয় এবং তড়িঘড়ি করে ‘ব্রেইন ডেড’ ঘোষণা।
- বিতর্ক: জীবন ফেরার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অঙ্গ সংগ্রহের জন্য কর্তৃপক্ষের অমানবিক জোরাজুরি।
- পরিণতি: প্রতিবাদে বেশ কয়েকজন কর্মীর পদত্যাগ এবং ঘটনার রাষ্ট্রীয় তদন্ত শুরু।
