ভোটের লড়াইয়ে থাকছে না ককরোচ জনতা পার্টি! জল্পনা উড়িয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সোশাল মিডিয়ায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা এবং যুবসমাজের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজপথে নামা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখছে? এই প্রশ্নকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা চলছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত নির্বাচনী ময়দানে নামার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। বরং বিভিন্ন জনমুখী ও ছাত্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তারা রাজপথের আন্দোলনই জারি রাখতে চান।
অধিকারের দাবিতে কেন ভোট লড়তে হবে
সম্প্রতি নিট কেলেঙ্কারি এবং দেশজুড়ে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই আন্দোলনের মাঝেই দলের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিজিৎ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে যদি নিজেদের অধিকার অর্জনের জন্য ভোটে লড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের চলবে কীভাবে? একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে কিছু ঘটলে প্রধানমন্ত্রী টুইট করেন, অথচ দেশের পড়ুয়াদের সংকট নিয়ে তিনি নীরব। এছাড়া, সম্প্রতি তাঁর ওপর হওয়া একটি হামলার ঘটনার জন্য আরএসএস-কে দায়ী করে তিনি জানান, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।
রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও স্বস্তিতে দুই শিবির
ককরোচ জনতা পার্টির নির্বাচনে না লড়ার এই সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে দেশের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি যদি সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামত, তবে যুবসমাজ বিশেষ করে ‘জেন জি’-র বিপুল সমর্থনে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেরই ভোটের সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যেতে পারত। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজপথের তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার এই প্রয়াস আগামী দিনেও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এক ধরণের পরোক্ষ চাপ বজায় রাখবে।
