ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন ধরপাকড়! এক ধাক্কায় শ্রীঘরে তৃণমূল কাউন্সিলরসহ ১০৯৫ জন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার লোকসভা নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে নিরাপত্তার প্রশ্নে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ ও প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মোট ১,০৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক গ্রেফতারির তালিকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের নাম থাকায় ভোটের মুখে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশের পরেই পুলিশ এই গণ-ধরপাকড় শুরু করেছে।
কড়া পদক্ষেপের কারণ ও নেপথ্য
নবান্ন ও লালবাজার সূত্রে খবর, মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘদিনের বকেয়া ওয়ারেন্ট থাকা ব্যক্তিদের আটক করা; দ্বিতীয়ত, এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের তালিকা ধরে তল্লাশি এবং তৃতীয়ত, বেআইনি অস্ত্র ও মদের কারবার রুখে দেওয়া। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভোটের আগে দুষ্কৃতীদের কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানোর একটি বড় চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শাসকদলের কাউন্সিলর থাকায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পরিবেশ উত্তপ্ত করতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতেই এই নেতারা সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নাকা চেকিং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ বাড়িয়ে দিয়ে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন।
এক ঝলকে
- রাজ্যজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১,০৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- গ্রেফতারির তালিকায় শাসকদলের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর রয়েছেন।
- বকেয়া ওয়ারেন্ট এবং এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় এই গণ-ধরপাকড়।
- নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড়সড় তল্লাশি ও রুট মার্চ শুরু হয়েছে।
