ভোট মিটতেই জ্বালানির ছ্যাঁকা, কেন্দ্রের ‘জনবিরোধী’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচন পর্ব মিটতেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর তরজা শুরু হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বঘোষিত আশঙ্কাকে সত্যি করে শুক্রবার এক ধাক্কায় লিটার প্রতি তিন টাকা দাম বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্যে ক্ষমতাসীন ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকারকে অবিলম্বে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও পরিকল্পনার অভাব
জালানির এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্রের ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ এবং ‘দিশাহীন নীতির কুফল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। আন্তর্জাতিক স্তরের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দাম বৃদ্ধির যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা খারিজ করে তিনি সরকারের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূলের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে। যদি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই থাকে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার আগে থেকে কেন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি? এই ঘাটতিকে নরেন্দ্র মোদি সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ডবল ইঞ্জিন সরকারকে তোপ
ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহনের খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে। এর জেরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বর্তমান ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। অতীতে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন যারা রাজ্যের কর প্রত্যাহারের দাবি জানাতেন, এখন তারাই ক্ষমতায় রয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, পূর্বতন সরকারের বিপুল কেন্দ্রীয় বকেয়া থাকার কারণে কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল, কিন্তু বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের সেই সমস্যা নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে পেট্রোল-ডিজেলের ওপর থেকে সমস্ত কর প্রত্যাহার করা, যাতে বাংলায় জ্বালানির দাম দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই কমে যায়।
