মণিপুরে ফের রক্তক্ষয়ী হিংসা, কুকি গ্রামে ঘুমন্ত দম্পতিসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা – এবেলা

মণিপুরে ফের রক্তক্ষয়ী হিংসা, কুকি গ্রামে ঘুমন্ত দম্পতিসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মণিপুরে জাতিগত হিংসার আগুন কিছুতেই নিভছে না। শুক্রবার ভোরে রাজ্যের কাংপোকপি জেলার একটি কুকি গ্রামে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় এক দম্পতিসহ অন্তত তিনজনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটি। নিহতদের পরিচয় মিলেছে, তারা হলেন লেটখনগাম হাওকিপ (৩৪), তাঁর স্ত্রী তিনমারি হাওকিপ (৩০) এবং জঙ্গমিনলান হাওকিপ (৩৪)।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ কাংপোকপির লোইবোল খুল্লেন গ্রামে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল বন্দুকবাজ প্রবেশ করে। গ্রামবাসীরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই দুষ্কৃতীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। গুলি চালানোর পাশাপাশি দুষ্কৃতী দলটি গ্রামের অন্তত সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। তবে ততক্ষণে হামলাকারীরা চম্পট দিয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দিকে সন্দেহের তির

এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠী এই নৃশংস হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে কুকি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সরাসরি নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। কাংপোকপি জেলাটি মূলত কুকি জনজাতি অধ্যুষিত হলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নাগা উপজাতির মানুষেরও বসবাস রয়েছে। এই ঘটনার পর কুকি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন ‘কুকি ইনপি মণিপুর’ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় নির্দল বিধায়ক হাওখোলেট কিপজেনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত বিরোধের জেরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে, এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা। একটি জনগোষ্ঠীর ওপর অন্য গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার এবং পুরোনো সংঘাতের প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতাই এই ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনার ফলে মণিপুরের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ফের বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিক উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে আস্থা ফেরাতে কাংপোকপি জেলা জুড়ে অতিরিক্ত আধা সামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকাটি ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *