মদ-মাদক-টাকার লড়াই, নজরে বঙ্গের ৫৫টি বিধানসভা কেন্দ্র!

মদ-মাদক-টাকার লড়াই, নজরে বঙ্গের ৫৫টি বিধানসভা কেন্দ্র!

নির্বাচনী বিধিভঙ্গ ও অবৈধ সামগ্রী: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রেকর্ড পরিমাণ নগদ ও সামগ্রী উদ্ধার

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় সারা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে এক বিশাল অঙ্কের অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, সারা রাজ্যে উদ্ধার হওয়া বেআইনি নগদ, মদ, মাদক ও মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন সামগ্রীর মোট মূল্য ৩৮৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনা আসন্ন পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সর্বাধিক নগদ উদ্ধার ও জেলাভিত্তিক চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নগদ অর্থ উদ্ধারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জেলা। এখান থেকে অন্তত ২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। উত্তর ২৪ পরগনায় উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ ২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ কোটি ১৪ লক্ষাধিক টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, রাজ্যের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে আর্থিক অনিয়মের ঝুঁকি অনেক বেশি।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও কমিশনের বিশেষ নজর

নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্দিষ্ট কিছু বিধানসভা কেন্দ্রের ওপর বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পর্যবেক্ষণে থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা এবং নদিয়ার পলাশিপাড়া। এই অঞ্চলগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কমিশনের তরফ থেকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল উত্তর ও রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে আর্থিক অপরাধের প্রবণতা বেশি বলে কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে। এসব অঞ্চলে অবৈধ লেনদেন এবং কালো টাকার কারবার রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় পাচার ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোই নয়, আন্তঃরাজ্য সীমানা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকাগুলোতেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি মদ, মাদকদ্রব্য এবং সোনা বা রূপার মতো মূল্যবান ধাতু পাচারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমিশনের মতে, সীমান্ত দিয়ে এই ধরনের চোরাচালান রোধ করাই বর্তমানে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এক ঝলকে

  • মোট উদ্ধার হওয়া অবৈধ সামগ্রীর মূল্য: ৩৮৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকা।
  • সবচেয়ে বেশি নগদ উদ্ধার: হাওড়া জেলায় (২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা)।
  • অন্যান্য জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা (২ কোটি ১৭ লক্ষ) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (২ কোটি ১৪ লক্ষাধিক)।
  • বিশেষ নজরদারি: কোচবিহার, ফরাক্কা, বালুরঘাট, কুমারগ্রাম, পলাশিপাড়া ও আসানসোল শিল্পাঞ্চল।
  • প্রধান অপরাধ: বেআইনি নগদ লেনদেন, মাদক পাচার, চোরাচালান ও আর্থিক অপরাধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *