মধ্যরাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড চিনের লিউঝৌ শহর, হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল এক ডজন বহুতল! – এবেলা

মধ্যরাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড চিনের লিউঝৌ শহর, হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল এক ডজন বহুতল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গভীর রাতে যখন গোটা শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ চিনের গুয়াংজি অঞ্চলের লিউঝৌ শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। স্থানীয় সময় রাত ১২:২১ মিনিটে আঘাত হানা এই কম্পনের জেরে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়েছে অন্তত এক ডজন বহুতল ভবন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) এবং চিনা ভূমিকম্প সংস্থা জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল লিউঝৌ-এর লিউনান জেলায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে এই অগভীর কম্পন তৈরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা ও ব্যাপ্তি অনেকটাই বেশি। প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষের বাস এই শিল্প শহরে রাতারাতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসায় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চীনই নয়, এর কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হংকং পর্যন্ত।

তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের তৎপরতা

চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসন তড়িঘড়ি প্রায় ৭,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে। তবে আশার কথা এই যে, এত বড় বিপর্যয়ের পরেও ওই এলাকায় বিদ্যুৎ, জল, গ্যাস এবং পরিবহন পরিষেবা সচল রয়েছে। রাত ২টোর মধ্যেই ৫১টি দমকল ও উদ্ধারকারী যানসহ ৩১৫ জনেরও বেশি জরুরি কর্মী উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছে পুরোদমে উদ্ধারকাজ শুরু করে দেন। পুলিশ, দমকল এবং চিকিৎসক দল অন্ধকার ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের প্রাণের খোঁজে নিরলস তল্লাশি চালাচ্ছে।

অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ও ভূবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ

ভূবিজ্ঞানীদের মতে, চিনের গুয়াংজি অঞ্চল সাধারণত উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নয়। বড় ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পগুলো মূলত সিচুয়ান এবং ইউনানের মতো চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে ঘটে থাকে। ফলে লিউঝৌ-এর মতো ভূখণ্ডে ৫.২ মাত্রার এই অগভীর ভূমিকম্প এবং তার জেরে এক ডজন বহুতল ধসে পড়ার ঘটনা বিশেষজ্ঞদের কাছেও বেশ অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগের। এই আচমকা বিপর্যয়ের পেছনে ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের নতুন কোনো সক্রিয়তা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক-এর ওপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *