মমতাকে উপহার ফেরত কাকলি-পুত্রের, জোড়াফুলে চরম ভাঙনের ইঙ্গিত! – এবেলা

মমতাকে উপহার ফেরত কাকলি-পুত্রের, জোড়াফুলে চরম ভাঙনের ইঙ্গিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়া সোনার নেকলেস এবং নিজের দুর্গাপুজোর উপহার পায়জামা-পাঞ্জাবি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উপহার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। এই ব্যক্তিগত পদক্ষেপের আড়ালে আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ঘনীভূত হওয়া এক চরম রাজনৈতিক সংকটই প্রকাশ্যে এসেছে।

উপহার ফেরত ও আইনি লড়াই

এই নজিরবিহীন ক্ষোভের মূল কারণ দলের একাংশের দ্বারা ছড়ানো কুৎসা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত করেছিলেন যে, এক প্রবীণ সাংসদের পরিবারের সদস্য বারাসাত বিধানসভার টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ। এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কাকলি-পুত্র। পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী সোনালী গুহর করা মদ্যপান সংক্রান্ত ব্যক্তিগত ও অবমাননাকর মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তিনি। এই মিথ্যা রটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং সোনালী গুহকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন পেশায় চিকিৎসক বৈদ্যনাথ। প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সংসদে বিদ্রোহী গোষ্ঠী, সংকটে দল

এই আইনি লড়াই ও উপহার ফেরতের আবহে লোকসভায় চরম ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েছে ঘাসফুল শিবির। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলে একটি সমান্তরাল অক্ষরেখা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জনই মমতার নেতৃত্ব অস্বীকার করে লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠন করতে চলেছেন এবং এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান মুখ খোদ কাকলি।

নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাংসদ-পুত্রের এই সরাসরি আইনি পদক্ষেপ দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি চাওয়ার অভিযোগ এবং বর্তমান এই উপহার ও টিকিট বিতর্ক দলের অভ্যন্তরীণ আদান-প্রদানের রাজনীতিকে প্রকট করে তুলেছে। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের এই দ্বন্দ্ব এখন এক বিশাল রাজনৈতিক ডামাডোলের সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব দলের ভবিষ্যৎ সংসদীয় সমীকরণের ওপর সরাসরি পড়তে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *