মমতার উপহার ফেরানোর বিস্ফোরক ঘোষণা কাকলি-পুত্রের, আইনি নোটিসের হুঁশিয়ারিতে বাড়ছে বঙ্গ রাজনীতির পারদ – এবেলা

মমতার উপহার ফেরানোর বিস্ফোরক ঘোষণা কাকলি-পুত্রের, আইনি নোটিসের হুঁশিয়ারিতে বাড়ছে বঙ্গ রাজনীতির পারদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র ডামাডোল এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। দলের সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সমস্ত উপহার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং নিজের বিবেকের দংশনের কারণেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বারাসাতের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের একদল সাংসদ যখন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, ঠিক তখনই তাঁর পুত্রের এই বিস্ফোরক পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

উপহার ফেরানোর নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সংঘাত

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে বৈদ্যনাথ ঘোষ জানান যে, বিয়ের সময় তাঁর স্ত্রীকে উপহার দেওয়া সোনার হার এবং দুর্গাপূজায় তাঁকে দেওয়া কুর্তা-পায়জামা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরত দিচ্ছেন। ছেলের এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সেই পোস্টটি শেয়ার করে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মন্তব্য, “তোমার এবং তোমার স্ত্রীর জন্য গর্ববোধ করছি।” বৈদ্যনাথবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রতি পুজোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কুর্তা-পায়জামা পাঠাতেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সমস্ত উপহার কালীঘাটের বাসভবনে পাঠিয়ে দেবেন। এমনকি, বিয়ের সোনার হারটি দু’বছর তাঁদের কাছে থাকার জন্য যদি কোনও সুদও দিতে হয়, তাও তিনি চুকিয়ে দিতে রাজি।

উপহার ফেরানোর পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈদ্যনাথ ঘোষ। সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায় এবং সোনালী গুহকে আইনি নোতিস পাঠানো হবে বলে তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, প্রায় মাসখানেক আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে এক সাংসদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, নিজের ছেলেকে লোকসভার টিকিট না দেওয়াতেই নাকি তিনি দল ভাঙার চেষ্টা করছেন। বৈদ্যনাথবাবুর দাবি, নাম না নিলেও ইঙ্গিতটি যে তাঁর মা ও তাঁর দিকেই ছিল, তা স্পষ্ট। এরপর সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্রও এই নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করায় তাঁরা যদি প্রকাশ্যে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চান, তবে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই প্রথম তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই বড়সড় বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। বর্তমানে তিনি প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে নয়া দিল্লিতে রয়েছেন, যাঁরা কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটকে প্রকাশ্য সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বৈদ্যনাথ ঘোষের পদক্ষেপ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই রাজনৈতিক জলঘোলা নিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপিও। বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ এই প্রতিবাদের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁর মতে অন্যায় হয়ে থাকলে অনেক আগেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যেত। তবে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তিনি তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এই আইনি লড়াই এবং উপহার ফেরানোর ঘটনা আগামী দিনে শাসক দলের অন্দরে ও সামগ্রিক রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *