‘মমতার সঙ্গে আছি’ বলেও ‘বিদ্রোহী’দের চিঠিতে দেবের সই! ১৯ তৃণমূল সাংসদের তালিকা ফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও চরম ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়া ছেড়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের ১৯ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। আর এই টানাপোড়েনের মাঝেই প্রকাশ্যে এল সেই চাঞ্চল্যকর চিঠি, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে খোদ ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী তথা দেবের স্বাক্ষর! অথচ দিনকয়েক আগেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব দাবি করেছিলেন, তিনি আমৃত্যু মমতার সঙ্গেই আছেন। দেবের এই দ্বিমুখী অবস্থানে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল।
ম্যাজিক নম্বর ছুঁয়ে ফেলল ‘বিদ্রোহী’ শিবির
গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ জিতেছিলেন। বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর বর্তমানে সেই সংখ্যা ২৮। দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৯ জন সাংসদের সমর্থন। সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ঠিক ১৯ জন সাংসদই সই করে স্পিকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন, যার ফলে আইনি ফাঁস গলে বেরিয়ে যাওয়ার ‘ম্যাজিক নম্বর’ ছুঁয়ে ফেলেছে বিদ্রোহী শিবির।
বিদ্রোহী সাংসদদের সম্পূর্ণ তালিকা (TMC Rebel MP Full list):
চিঠিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী যে ১৯ জন সাংসদ সই করেছেন, তাঁরা হলেন:
- কাকলি ঘোষ দস্তিদার
- শতাব্দী রায়
- বাপি হালদার
- দীপক অধিকারী (দেব)
- সায়নী ঘোষ
- রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
- ইউসুফ পাঠান
- জুন মালিয়া
- পার্থ ভৌমিক
- ডাঃ শর্মিলা সরকার
- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
- জগদীশ বর্মা বসুনিয়া
- অসিতকুমার মাল
- অরূপ চক্রবর্তী
- খলিলুর রহমান
- আবু তাহের খান
- মিতালি বাগ
- মালা রায়
- কালীপদ সোরেন
লক্ষ্য এবার এনডিএ (NDA)?
বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তিনি লোকসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) হওয়ার কারণে বাকি সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা জনাদেশ মেনে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করি আমাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথচলা এনডিএ-র (NDA) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। সেই কারণেই স্পিকারকে জানানো হয়েছে যে আমরা এনডিএ-র অংশ হতে চাই।”
আপাতত বাকি ৯ জন সাংসদ এই শিবিরে যোগ না দিলেও তাঁদের অনেকের গলার সুরই এখন ‘বেসুরো’। ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ধার ও ভার আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
