১২ বছরে বদলে গেল ভারতের অর্থনীতি, মোদী যুগে দেশজুড়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন! – এবেলা

১২ বছরে বদলে গেল ভারতের অর্থনীতি, মোদী যুগে দেশজুড়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০১৪ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে এক ব্যাপক রূপান্তর ঘটেছে। একাদশ বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের জিডিপি ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারত এখন আর শুধু বিশ্বমঞ্চে নীরব দর্শক নয়, বরং বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

অর্থনৈতিক উত্থান ও পরিকাঠামোর অভূতপূর্ব উন্নয়ন

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত জিডিপি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকাঠামো নির্মাণে খণ্ড খণ্ড পরিকল্পনার বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি’-র মতো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কারণেই এই আর্থিক সাফল্য তরান্বিত হয়েছে। ২০১৪ সালে সরকারি পরিকাঠামো বিনিয়োগ যেখানে মাত্র ২ লক্ষ কোটি টাকা ছিল, তা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে একধাপে বেড়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। দেশজুড়ে ২৬টি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মেট্রো রেলের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং সচল বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে ১৬৪-তে উন্নীত হওয়ার ফলে দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হয়েছে, তেমনই কৌশলগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষেত্রেও দেশে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র দৌলতে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আজ ১৩০ কোটিতে পৌঁছেছে। ইউপিআই লেনদেন ২,১২৫ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা প্রান্তিক স্তরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাকে একটি সুসংহত অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। এছাড়া ৩২ কোটিরও বেশি মহিলা ‘জন ধন’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছেন। অন্যদিকে, আর্থিক বাজারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দেশে ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিলেও দেশীয় বিনিয়োগের শক্তিতেই ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতি তার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *