মমতা এখন অপ্রাসঙ্গিক আর ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

মমতা এখন অপ্রাসঙ্গিক আর ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এক ‘অপ্রাসঙ্গিক’ নাম। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কি করবেন না, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বলেও দাবি করেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— এই দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া এই হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থী।

ইস্তফা জল্পনা ও শুভেন্দুর তোপ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার অনড় অবস্থান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তিনি ইস্তফা দেবেন কি দেবেন না, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর কোনও গুরুত্ব নেই। মানুষ জনাদেশ দিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি এখন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, বিজেপি এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা বা সাংবিধানিক জেদকে উপেক্ষা করে সরাসরি সরকার গঠনের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও গুন্ডাদমনের বার্তা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে এদিন রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে একটিও হিংসার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “বিজেপি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডাদমন করবে। যারা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই প্রথমবার হিংসা রুখতে প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার এবং দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কাজ করলেন শুভেন্দু।

বিজয়ীর আত্মবিশ্বাস

একই সঙ্গে দুই কেন্দ্র (নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর) থেকে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে তিনি যেমন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তেমনই বাইরে বেরিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকতে চলেছে। শুভেন্দুর এই কড়া অবস্থান তৃণমূল শিবিরের ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *