মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা নিয়ে কেরলজুড়ে সতর্কতা, মরণঘাতী সংক্রমণ এড়াতে বিশেষ নির্দেশিকা – এবেলা

মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা নিয়ে কেরলজুড়ে সতর্কতা, মরণঘাতী সংক্রমণ এড়াতে বিশেষ নির্দেশিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেই ‘মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা’ বা নেগলেরিয়া ফাউলেরি-র ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ জনগণকে এই বিরল কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক পরজীবী সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত উষ্ণ ও অগভীর মিঠা জলের উৎস থেকে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এনসেফালাইটিসের লক্ষণ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যামিবা সংক্রমণের পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

সংক্রমণের প্রকৃতি ও মরণঘাতী ঝুঁকি

নেগলেরিয়া ফাউলেরি নামক এই এককোষী জীবটি সাধারণত নাক দিয়ে মানবশরীরে প্রবেশ করে সরাসরি মস্তিষ্কের টিস্যুকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস’ (PAM)। এই রোগটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং বিশ্বজুড়ে এর মৃত্যুর হার প্রায় ৯৯ শতাংশ। তবে কেরল সরকার দ্রুত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ২৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

এই রোগে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা, বমি ভাব এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দূষিত জলে স্নান বা মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুকুর বা হ্রদের স্থির জলে সাঁতার কাটার সময় ‘নোজ প্লাগ’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে জল নাকের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এ ছাড়া সাইনাস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সরাসরি নলের জল ব্যবহার না করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা বা ফিল্টার করা জল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এক ঝলকে

  • নেগলেরিয়া ফাউলেরি বা ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ মূলত উষ্ণ ও অগভীর মিঠা জলে জন্মায়।
  • নাক দিয়ে এই পরজীবী শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী।
  • জ্বর, মাথাব্যথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ; সংক্রমণ রুখতে নাকের সুরক্ষা জরুরি।
  • সাইনাস পরিষ্কার বা জলক্রীড়ার ক্ষেত্রে কেবল জীবাণুমুক্ত বা ফোটানো জল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *