মাটি সংকটে থমকে যাচ্ছে প্রতিমা তৈরির কাজ, চরম উদ্বেগে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা – এবেলা

মাটি সংকটে থমকে যাচ্ছে প্রতিমা তৈরির কাজ, চরম উদ্বেগে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর বাকি আর মাত্র মাস চারেক। প্রতি বছর এই সময়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীদের পাড়া কুমোরটুলিতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত থাকেন শিল্পীরা। তবে এবার উৎসবের সেই চেনা প্রস্তুতিতে আচমকাই ছন্দপতন ঘটেছে। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপাদান এঁটেল মাটির তীব্র সংকটের কারণে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও আঁধার নেমে এসেছে কুমোরটুলির শত শত শিল্পীর ঘরে।

প্রশাসনের কড়াকড়িতে বন্ধ মাটির জোগান

সাধারণত প্রতি বছর উলুবেড়িয়া, কাকদ্বীপ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিমা তৈরির বিশেষ এঁটেল মাটি আসে কুমোরটুলিতে। শিল্পীদের একাংশ স্বীকার করেছেন, এই মাটির একটি বড় অংশ আসত অবৈধ উপায়ে খনন করা জমি থেকে। রাজ্যে সম্প্রতি নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রশাসন বেআইনিভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ফলে জেলাগুলোতে বেআইনি মাটি কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমোরটুলিতেও মাটির জোগান কার্যত স্তব্ধ। বর্ষা নামার আগেই যেখানে প্রতিমা তৈরির সিংহভাগ কাজ এগিয়ে রাখার কথা, সেখানে মাটির অভাবে থমকে গেছে চেনা ব্যস্ততা।

আর্থিক ক্ষতি ও সময়মতো প্রতিমা জোগান দেওয়ার আশঙ্কা

বড় শিল্পীদের কাছে কিছু পরিমাণ মাটি মজুত থাকলেও তাতে টান পড়েছে। অন্যদিকে, ছোট ও মাঝারি শিল্পীদের অবস্থা আরও শোচনীয়; অনেকের ঘরেই এখন কাজ করার মতো মাটি নেই। প্রতিমা তৈরির চাপ প্রতি বছরই বাড়ছে, যার জন্য জানুয়ারি মাস থেকেই বুকিং বা বায়না শুরু হয়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মাটির এই সংকট দূর না হলে নির্দিষ্ট সময়ে মণ্ডপে প্রতিমা পাঠানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা।

এই অচলাবস্থার কারণে মৃৎশিল্পীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কুমোরটুলিতে কাজ করতে আসা দৈনিক মজুরিভিত্তিক জেলা ও বহিরাগত কারিগরদের কাজ না থাকলেও বসিয়ে বসিয়ে টাকা দিতে হচ্ছে। অন্যথায় দক্ষ কারিগররা চলে গেলে পরবর্তীতে মাটি এলেও প্রতিমা গড়ার মানুষ পাওয়া যাবে না। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্থানীয় নবনির্বাচিত বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীর নজরে আনা হয়েছে। অতীতের করোনা মহামারির বিপর্যয় কাটিয়ে যেভাবে উৎসবের দিন ফিরেছিল, এবারও ঠিক সেভাবেই সরকারি হস্তক্ষেপে দ্রুত মাটির সংকট কেটে যাবে এবং আশ্বিনের শারদপ্রাতে যথাসময়ে দেবীর আরাধনা শুরু হবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *