রাতের অন্ধকারে সরছে কলকাতা পুরসভার ফাইল, সন্তোষ পাঠকের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরসভার ভেতরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ডামাডোল এবার আরও চরম রূপ নিল। অধিবেশন ডাকা নিয়ে নজিরবিহীন টানাপোড়েন এবং শাসক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যেই এবার পুরসভার অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি চুরির মারাত্মক অভিযোগ উঠল। বিজেপি কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠকের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরসভার অন্দরে তীব্র হুলস্থূল পড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি পুর সচিবের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
বস্তাবন্দি নথি ঘিরে রহস্য
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়েই গত তিন-চারদিন ধরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন বিজেপি কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক। অবশেষে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন। তাঁর দাবি, একটি বা দুটি নয়, একাধিক বস্তায় পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ভরে রাখা হয়েছে, যা রাতের অন্ধকারে পাচার করার পরিকল্পনা চলছে। সরকারি নথি এভাবে বস্তাবন্দি করে রাখার ঘটনাটি পুরসভার প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
প্রশাসনিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল। মেয়র পারিষদের বৈঠক বাতিল এবং মাসিক অধিবেশনে স্থগিতাদেশ জারি হওয়া নিয়ে এমনিতেই তৃণমূলের অন্দরে ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত চরমে। এই চরম অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে পুরসভার আর্থিক লেনদেন বা কোনো দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করতেই রাতের অন্ধকারে ফাইল সরানোর এই মরিয়া চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এই নথি গায়েব হয়ে গেলে পুরসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশ বাঁও জলে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরই পুরসভার সচিব কিশোর কুমার বিশ্বাসের কাছে গিয়ে নৈশ নিরাপত্তা বাড়ানোর লিখিত দাবি জানিয়েছেন সন্তোষ পাঠক। পুর সচিব বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, ফাইল চুরির এই বিস্ফোরক অভিযোগ কলকাতা পুরসভার ক্ষয়ে যাওয়া প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে আরও একবার প্রকাশ্য রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়ে দিল।
