মানবিকতার অভাব! দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের শো-কজ করায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

মানবিকতার অভাব! দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের শো-কজ করায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

নির্বাচনী বিধি উপেক্ষা করে দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের পোলিং অফিসারের দায়িত্ব প্রদান এবং পরবর্তীতে ডিউটিতে যোগ না দেওয়ায় শোকজ নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে কমিশনকে পুরো বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়মানুযায়ী দৃষ্টিহীনদের এই ধরনের গুরুদায়িত্বে নিযুক্ত করার কথা নয়, অথচ এক্ষেত্রে সেই সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আদালতের কড়া অবস্থান ও আইনি পর্যবেক্ষণ

‘অল বেঙ্গল ব্লাইন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর করা মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জানিয়েছে, দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা প্রিসাইডিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পালন করতে পারেন না। তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার দৃষ্টিহীন শিক্ষককে পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। দায়িত্ব পালন না করায় কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং শোকজ নোটিশ জারি করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, অ্যাসোসিয়েশনকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত আবেদন জমা দিতে হবে এবং কমিশনকে সেই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা

নির্বাচন কমিশনের এমন পদক্ষেপে শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার করা নিয়েও আদালত কমিশনের সমালোচনা করেছিল। বর্তমান রায়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কমিশনের সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা সন্তুষ্ট না হলে তারা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। এই মামলার ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্বে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের আরও সতর্ক ও সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • নির্বাচনী ডিউটিতে যোগ না দেওয়ায় প্রায় ২,০০০ দৃষ্টিহীন শিক্ষককে শোকজ করে নির্বাচন কমিশন।
  • কমিশনের এই ভূমিকার সমালোচনা করে মামলাটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
  • আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
  • কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা পুনরায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *