৫ সন্তানকেই কাড়ল নেশা, মায়ের কান্না দেখে স্তব্ধ আদালত! পাঞ্জাব মাদককাণ্ডে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, মাদকের ছোবলে এক মা তাঁর পঞ্চম সন্তানকেও হারিয়েছেন। একের পর এক সব সন্তানকে হারানোর এই ঘটনা পুরো রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাদকাসক্তির এই বিস্তার রোধে বর্তমান ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট নয় এবং পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।
পুলিশের ভূমিকা ও বিচার ব্যবস্থার সংকট
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, পুলিশ সাধারণত চুনোপুঁটিদের ধরে সংবাদমাধ্যমে প্রচার পেলেও বড় মাদক সম্রাটরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে আর কাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তা সবার জানা। পুলিশ প্রশাসনকে আরও সংবেদনশীল করার পাশাপাশি প্রভাবশালী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এনডিপিএস (NDPS) মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি উচ্চ আদালতে বিশেষ আদালত গঠনের ওপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
লুধিয়ানা এখন মাদকের মূল কেন্দ্র
শহরকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার প্রসারে লুধিয়ানাকে বর্তমানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে না দেখে মাদক নির্মূল করার যৌথ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রুখতে না পারলে রাজ্যের যুবসমাজ এবং পারিবারিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক ঝলকে
- পাঞ্জাবে মাদকের কারণে এক মায়ের পাঁচ সন্তানেরই মৃত্যু হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ছোট মাদক বিক্রেতাদের বদলে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
- লুধিয়ানাকে মাদকের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
- মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত শেষ করতে বিশেষ এনডিপিএস আদালত গড়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
