‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সরাসরি পাকিস্তানকে মদত দিয়েছিল চীন! বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সরাসরি পাকিস্তানকে মদত দিয়েছিল চীন! বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে চীন। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সামরিক উত্তেজনার সময় বেইজিং যে সরাসরি ইসলামাবাদকে কারিগরি ও সামরিক সহযোগিতা প্রদান করেছিল, তা এবার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল তারা। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না (AVIC)-এর ইঞ্জিনিয়ারদের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

সরাসরি রণক্ষেত্রে চীনা ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতি

প্রতিবেদনে জানা গেছে, বেইজিংয়ের চেংডু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়াররা সেই উত্তপ্ত সময়ে পাকিস্তানের সাপোর্ট বেসগুলোতে উপস্থিত ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার ঝাং হেং জানান, মে মাসের সেই তীব্র দাবদাহ ও যুদ্ধের সাইরেনের মাঝে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের হাতে থাকা চীনা যুদ্ধবিমান, বিশেষ করে জে-১০সিই (J-10CE) যেন পূর্ণ শক্তিতে ভারতের মোকাবিলা করতে পারে। এই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে চীন স্বীকার করল যে তারা কেবল অস্ত্র সরবরাহ নয়, যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি কারিগরি মদতও দিয়েছে।

অপারেশন সিন্ধুর ও ভারতের পাল্টা আঘাত

২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহলগামে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্ধুর’ শুরু করে। ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তান ও পিওকে-র অভ্যন্তরে অন্তত ৯টি জঙ্গি ডেরায় হামলা চালিয়ে লস্কর ও জইশ-ই-মোহাম্মদের শতাধিক জঙ্গিকে খতম করেছিল। চীনের এই নতুন স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, সেই সময় পাকিস্তান কেবল ভারতের প্রত্যাঘাতের মুখে পড়েনি, বরং চীনের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও কারিগরি শক্তির ওপর ভরসা করেই টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল। ভারতীয় সেনার মতে, পাকিস্তান এখন চীনের অস্ত্র পরীক্ষার ‘লাইভ ল্যাব’-এ পরিণত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই কবুলনামা ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করবে। ভারত আগেই দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান তাদের সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮১ শতাংশই চীনের কাছ থেকে পায়। চীনের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। বেইজিংয়ের এই কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, পাকিস্তান ও চীনের সামরিক আঁতাত এখন কেবল অস্ত্র কেনা-বেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণক্ষেত্রে সহযোগিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক ঝলকে

  • গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিন্ধুর’ চলাকালীন পাকিস্তানকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা কবুল করল চীন।
  • চীনা ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে উপস্থিত থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিশ্চিত করেছিলেন।
  • ভারত আগেই অভিযোগ করেছিল যে, ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) পর্যায়ের আলোচনার তথ্যও চীন পাকিস্তানের কাছে ফাঁস করেছিল।
  • ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত চীন পাকিস্তানকে প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *