মিটিংয়েই যাইনি, সই করল কে? ভূতের ভেলকিতে তোলপাড় তৃণমূল বিধায়ক বাহারুলের মন্তব্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সই জাল নিয়ে তোলপাড়! সিআইডির জেরায় বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল বিধায়ক বাহারুলের
বিরোধী দলনেতার নাম সংক্রান্ত রেজোলিউশনে বিধায়কদের স্বাক্ষর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে হানা দেয় সিআইডি। এই ঘটনায় স্বাক্ষর জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল।
সই নিয়ে বিস্ফোরক বাহারুল
তদন্তকারী দলের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে দাঁড়িয়ে সরাসরি নিজের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক। তিনি দাবি করেছেন, ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতির কারণে ওইদিন তিনি ভাঙড়ের নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বিধায়কের সরাসরি প্রশ্ন, আমি যদি মিটিংয়েই না যাই, তবে আমার সইটা কি ভূতে করল? এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী এবং স্বাক্ষর সংগ্রহের বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
জালিয়াতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার নাম চূড়ান্ত করতে সমস্ত বিধায়কের সম্মতিসূচক স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে পাঠানো রেজোলিউশনের স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতে গিয়েই সিআইডি এই দুর্নীতির আঁচ পেয়েছে। ঘটনার জেরে বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, পুরো দলটাই জাল এবং সম্মতিপত্রে বিধায়করা হয়তো স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন না। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি শুধু বাহারুল ইসলাম নন, বেলগাছিয়ার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও গিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিরোধী দলনেতার পদের মর্যাদা ও আইনি বৈধতা নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
