মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষ, জনসংযোগ নাকি সুশাসনের অভিনব মডেল! – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষ, জনসংযোগ নাকি সুশাসনের অভিনব মডেল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’। পূর্বঘোষিত ১ জুনের পরিবর্তে সোমবার থেকেই বিধাননগরের বিজেপি কার্যালয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম দিনেই নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরিহারা এবং বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীসহ প্রায় ৬০ জন মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হন। সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জনতার দরবারের কর্মপদ্ধতি ও কারণ

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করাই এই কর্মসূচির মূল কারণ। এবার থেকে প্রতি সোমবার সকাল ১০টায় এই জনতার দরবার বসবে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের দুজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন। আগত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হবে। মানুষের অভাব-অভিযোগ কোনো ফোন কলের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি মুখোমুখি বসে শোনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কীভাবে সাধারণ মানুষ এই দরবারে আবেদন করবেন, সেই বিষয়ে বিজেপি ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই একটি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব

উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা বা ছত্তিসগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘জনতার দরবার’ অত্যন্ত পরিচিত এবং সফল একটি মডেল হলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এমন কর্মসূচির আয়োজন করলেন। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নির্দিষ্ট দফতরে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করার নিয়ম ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল সরকারের আমলে ‘দিদি কে বলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে ফোনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলেও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি বসার সুযোগ ছিল সীমিত। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর এই সরাসরি যোগাযোগের মডেলটি রাজ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দিনের দরবারে আসা ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াতে বড় প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *