মুরগি চুরির প্রতিবাদ করায় মহিলাকে নিগ্রহ! ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে তাণ্ডবের অভিযোগ

ভোটগণনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে নজিরবিহীন রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছে। ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা এলাকার ইটখোলা অঞ্চলে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক মহিলাসহ দুই বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কবির কৃষ্ণ হালদার নামে এক কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
হামলার নৃশংসতা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
শনিবার রাতে মধুখালী এলাকায় লাঠি, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একদল দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী দীপিকা নস্করের দাবি, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সর্দারের অনুগামীরা তাঁর খামার থেকে মুরগি চুরি করছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁকে চরম অপমান ও মারধর করা হয়। দীপিকার অভিযোগ, “নেতা হয়ে মুরগি চুরি করছ কেন বলায় আমাকে বিছানায় ফেলে মারধর করা হয়। এমনকি ৪ তারিখের পর আমাকেও বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।” এলাকায় অন্তত ৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই হামলার ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সর্দারের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, গণনার আগে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এই হামলার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তাদের দাবি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোট গণনার আগে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে উঠেছে।
