মৃত্যুমিছিলে বাংলার নিমগাছ, নেপথ্যে কি তবে ছত্রাকের মারণ ছোবল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বোলপুর থেকে নানুর কিম্বা লাভপুর, বাংলার বীরভূম জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নিমগাছের মড়ক। হঠাৎ করেই গাছের নতুন পাতা ঝলসে যাচ্ছে এবং শুকিয়ে মারা যাচ্ছে একের পর এক গাছ। সারি সারি নিমগাছের এমন কঙ্কালসার চেহারা দেখে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। নিমের মতো একটি ঔষধি ও জীবাণুনাশক গুণের গাছে কীভাবে এই ধরনের মারণ রোগ থাবা বসাল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিম ডাইব্যাকের হানা ও দূষণের প্রভাব
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ‘নিম ডাইব্যাক’ নামক এক ভয়াবহ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের দাবি, ক্রমবর্ধমান দূষণের কারণে গত কয়েক বছরে নিমগাছের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা এর ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক উপাদানগুলো বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। ফলে সহজেই ছত্রাক বা ভাইরাস গাছকে আক্রমণ করছে এবং কচি পাতা গজানোর আগেই গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশের ভারসাম্য ও আগামীর শঙ্কা
পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তর মতে, মাত্রাতিরিক্ত তাপপ্রবাহ এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। অতীতে নারকেল গাছে এমন ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ দেখা গেলেও নিমের ক্ষেত্রে এই মড়ক অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বন দপ্তর ও কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, সঠিক সময়ে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ না নিলে এই সবুজায়ন ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে ফেললে হয়তো গাছ বাঁচানো সম্ভব, কিন্তু হাজার হাজার গাছের পরিচর্যা করাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- বোলপুর, নানুর ও লাভপুর জুড়ে শত শত নিমগাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নিম ডাইব্যাক’ ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণই এই মড়কের কারণ।
- অতিরিক্ত দূষণ ও তাপপ্রবাহের ফলে নিমগাছের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
- প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
