মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, এফআইআর রুজু শতদ্রুর – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/16/satadru-dutta-on-line-messi-controversy-2026-05-16-21-38-59.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতায় ফুটবল যুবরাজ লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বহু চর্চিত সেই ঘটনার জল এবার গড়াল থানা-পুলিশ পর্যন্ত। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মাঠে নেমে পাঁচ ধারায় এফআইআর রুজু করেছেন ইভেন্ট ম্যানেজার শতদ্রু দত্ত। সেই ঐতিহাসিক ইভেন্টে পুলিশের গাফিলতি এবং মন্ত্রীর অতি-সক্রিয়তার জেরে কীভাবে গোটা আয়োজনটি বিপর্যয় বা ‘ন্যাচাকার’ রূপ নিয়েছিল, তা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। শতদ্রুর অভিযোগ, পদের প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্রমাগত হুমকি দিয়ে সাধারণ দর্শকদের মেসি-দর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিলেন খোদ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।
টিকিট নিয়ে কালোবাজারি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
ইভেন্ট ম্যানেজার শতদ্রু দত্তের দাবি, এই মেগা ইভেন্ট শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ২২ হাজারেরও বেশি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট আদায় করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই টিকিটগুলো বাজারে কালোবাজারি করা হয়েছে বলে শতদ্রুর কাছে নিশ্চিত খবর রয়েছে। ঘটনার পর আদালতের নির্দেশে যখন দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন এক অদ্ভুত অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অনলাইন ক্রেতাদের তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি জানাতে থাকেন, যা থেকে মন্ত্রীর সংগৃহীত কমপ্লিমেন্টারি টিকিট চড়া দামে বিক্রির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়া, নিজের দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাগ্নীর জন্য প্রভাব খাটিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড তৈরি এবং জুঁই বিশ্বাসসহ একাধিক ঘনিষ্ঠকে অনৈতিকভাবে মাঠে ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগও উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
মেসির নিরাপত্তা ও দর্শকদের বঞ্চনা
অভিযোগের তালিকায় আরও একটি বড় বিষয় হলো সাধারণ দর্শকদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। ইভেন্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে হুডখোলা জিপে করে মাঠ ঘোরানোর কথা ছিল, যাতে স্টেডিয়ামের সমস্ত দর্শক তাঁকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। কিন্তু প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এবং শতদ্রুকে হুমকি দিয়ে বলেন, মাঠটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে। ফলে সাধারণ দর্শকরা যেমন বঞ্চনার শিকার হন, তেমনই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের দিয়ে মেসির সঙ্গে সেলফি তোলানোর হিড়িক পড়ে যায় মাঠে। আপাতত টিকিটের কালোবাজারি নিয়ে মামলা হলেও, মেসির খুব কাছে চলে যাওয়া, তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলা এবং বেআইনিভাবে ঘনিষ্ঠদের ভিড় জমানোর মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়েও খুব শীঘ্রই আদালতে আলাদা মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরের এই বিশৃঙ্খলার পেছনে বড় আর্থিক দুর্নীতির ছায়া দেখছেন বিরোধীরা।
