মৌমিতার পর এবার গৌরীশঙ্কর, দিনহাটা পৌরসভা দুর্নীতিতে একের পর এক জালে উদয়ন ঘনিষ্ঠরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিনহাটা পৌরসভার বহুল চর্চিত বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি মামলায় আরও এক বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রেফতার হলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ আরও এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। দিনহাটা পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিনই এই একই মামলায় পুলিশি জালে ধরা পড়েছিলেন উদয়ন ঘনিষ্ঠ অপর নেত্রী ও পৌরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির জেরে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
টানটান উত্তেজনার পর আত্মসমর্পণ
দিনহাটা পৌরসভার বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক গরমিল সামনে আসার পর থেকেই তৎপরতা শুরু করেছিল তদন্তকারী দল। গত রবিবার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে উদয়ন গুহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার পরপরই প্রাক্তন পৌরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর খোঁজে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশি তৎপরতা ও চারদিকের চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আর লুকিয়ে থাকতে পারেননি এই তৃণমূল নেতা। নিজেই দিনহাটা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের পর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার দেখায়।
দুর্নীতির উৎস ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী যখন দিনহাটা পৌরসভার পৌরপ্রধান পদে আসীন ছিলেন, তখন বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ও নকশা তৈরিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতি হয়েছিল। এই গুরুতর গরমিল প্রকাশ্যে আসার পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে তাঁকে পৌরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল।
এই জোড়া গ্রেফতারির পর কোচবিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুর্নীতির জাল আরও গভীরে বিস্তৃত। লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা চলছিল, তার মধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের দুই নেতার এই পতন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপর প্রবল চাপ তৈরি করল। এই ঘটনার পর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের অন্দরে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের নামও খুব দ্রুত সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
