যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের মাঝে ভাঙল নন্দলাল বসুর ঐতিহাসিক প্রতীক, জানেন এর পেছনের গভীর অর্থ – এবেলা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের মাঝে ভাঙল নন্দলাল বসুর ঐতিহাসিক প্রতীক, জানেন এর পেছনের গভীর অর্থ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় শিষ্য নন্দলাল বসুর আঁকা ঐতিহাসিক এমব্লেমটি সম্প্রতি ছাত্র সংঘর্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি এবিভিপি ও এসএফআইয়ের রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে এর লোহার বলয়টি খুলে যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরকে দোষারোপ করেছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ফের সেটিকে আগের স্থানে পুনর্বাসন করে। ১৯৫৫ সালে নির্মিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার নকশার জন্য নন্দলাল বসুর পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তিনটি ভিন্ন স্তরে সাজানো এই অনন্য নান্দনিক প্রতীকটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিল্প, মেধা এবং জাতীয় চেতনার মেলবন্ধন।

রামপ্রসাদ দে, আনন্দ লাল ও অমৃতা সেনের লেখা ‘ল্যাম্প ইন লোটাস’ বইয়ে এই প্রতীকের বিশেষ তাৎপর্য ফুটে উঠেছে। এতে পদ্মবলয়ের মাঝে থাকা তিনটি অগ্নিশিখা মূলত জ্ঞান, আধ্যাত্মিক বিকাশ ও সংস্কৃতিমনস্কতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এগুলো সামগ্রিকভাবে মানুষের মেধা ও কল্পনার বিকাশকে সূচিত করে এবং বাইরের পদ্মপাপড়িগুলো সূক্ষ্ম শিল্পবোধ নির্দেশ করে। কলা, বিজ্ঞান ও বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সমন্বয় সাধনে নন্দলাল বসু ফাইন আর্টসের সঙ্গে প্রযুক্তির এক চমৎকার সামঞ্জস্য তৈরি করেছিলেন। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অধ্যাপক সুপ্রিয় চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষাবিদরা একে চরম লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়ে অশিক্ষার পরিচয় বলে উল্লেখ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *