যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামাতে পুতিনের মাস্টারপ্ল্যান, মধ্যস্থতায় ব্যর্থ পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রেমলিন এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেই এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
পাকিস্তান দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করলেও কোনো কার্যকর বৈঠক আয়োজন করতে পারেনি। এর মধ্যেই গত ১ এপ্রিল পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা গ্রহণকারী ইরানি নেতা কামাল খারাজি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো হামলা হবে না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন এই সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
রাশিয়ার এই নতুন শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুতিন ইতিমধ্যে প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনের মতে, চলমান এই অস্থিতিশীলতা নিরসনে রাশিয়া বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য কাঠামো সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে এই কূটনৈতিক দৌড়ে পাকিস্তান কার্যত পিছিয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন আফগানিস্তান ইস্যুতে চীনে ব্যস্ত, তখন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে। পুতিনের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
