যুদ্ধ নয় শান্তি চাই: আমার সন্তানকে আমি হারাতে রাজি নই!

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই: আমার সন্তানকে আমি হারাতে রাজি নই!

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত দেশটির শিশুদের জন্য গভীর সংকট তৈরি করেছে। প্রতিনিয়ত বোমার শব্দ, ফাইটার জেটের গর্জন এবং ড্রোন হামলার আতঙ্কে ইরানের প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ শিশু দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমা বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) শিকার হচ্ছে। যুদ্ধ ও অনিরাপত্তার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা দীর্ঘদিন গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে তাদের মধ্যে তীব্র মানসিক অস্থিরতা, অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন দেখা এবং খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাগুলো ব্যাপকভাবে বাড়ছে। চলমান এই গোলযোগের ফলে পারিবারিক কাঠামোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইরানি শিশুদের ওপর যুদ্ধের অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুদের ‘বসীজ’ মিলিশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাকে অনেকে ‘শৈশবের সামরিকীকরণ’ হিসেবে দেখছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, সামরিক কাজে শিশুদের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। ইতিমধ্যে চেকপয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী ১১ বছর বয়সী কিশোর আলীরেজা জাফরীসহ যুদ্ধে অন্তত ২৫৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রচারণার বিপরীতে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের এই সামরিক ধ্বংসলীলা থেকে দূরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কারণ এই অভিজ্ঞতা একটি পুরো প্রজন্মের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *