যুবশক্তি কার্ডে বড় চমক! বেকার মেয়েরা কি পাবেন মাসে ৩০০০ টাকা ও ১০ লক্ষের লোন? জানুন বিজেপির মেগা প্ল্যান – এবেলা

যুবশক্তি কার্ডে বড় চমক! বেকার মেয়েরা কি পাবেন মাসে ৩০০০ টাকা ও ১০ লক্ষের লোন? জানুন বিজেপির মেগা প্ল্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেকার যুবক-যুবতীদের লক্ষ্য করে ‘যুবশক্তি কার্ড’ প্রকল্পের রূপরেখা সামনে এনেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বড় অংশের তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বড়সড় চমক দেওয়ার পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে কর্মহীন তরুণীদের জন্য এই কার্ডে একগুচ্ছ বাড়তি সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আর্থিক সহায়তা ও ঋণের সংস্থান

বিজেপির প্রস্তাবিত এই ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মাধ্যমে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মহীন যুবক ও যুবতীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা, যা ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ করার কথা জানাচ্ছে বিজেপি। কেবল মাসিক ভাতাই নয়, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে স্বাবলম্বী করতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্টার্টআপ ঋণের সুবিধাও রাখা হয়েছে এই পরিকল্পনায়। এর ফলে তরুণীরা নিজের উদ্যোগে ক্ষুদ্র শিল্প বা ব্যবসা গড়ার সুযোগ পাবেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

নিয়োগ ও বয়সসীমায় বিশেষ ছাড়

কর্মসংস্থানের অভাবকে হাতিয়ার করে বিজেপি তাদের ইস্তাহারে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মিত করার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি বছর এসএসসি (SSC) ও টেট (TET) পরীক্ষা আয়োজন এবং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড়। এছাড়া মহিলাদের জন্য পৃথকভাবে ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাতা এবং কর্মসংস্থান—উভয় দিক সামাল দিয়ে নারী ভোটারদের সমর্থন আদায় করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেধাশক্তি ভিনরাজ্যে চলে যাওয়া রোধ করা এবং রাজ্যের বেকারত্ব দূর করাই এই প্রকল্পের ঘোষিত উদ্দেশ্য। তবে বিরোধীরা একে ভোটের আগে ভোটার টানার কৌশল হিসেবেই দেখছেন। একদিকে যেমন বিপুল অঙ্কের ভাতার প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে, অন্যদিকে এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক দায়ভার রাজ্য বাজেট কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তবুও, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বলের চাকরিপ্রার্থী তরুণীদের কাছে এই প্রকল্প একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *