‘যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, পূরণ হয়নি’, মোদী-শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ রচনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার ঠিক আগেই চরম অস্বস্তিতে শাসকদল! হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় এবার দলবদলের স্পষ্ট সুর। বুধবার হুগলির রবীন্দ্র ভবনে দাঁড়িয়ে নিজের হতাশা উগরে দিলেন তারকা সাংসদ, আর তাতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ চরমে।
কী বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে রচনা এদিন আক্ষেপের সুরে বলেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম, তা পূরণ হয়নি। পরিস্থিতির কারণে আমার সেই লক্ষ্য পূরণ বাধা পেয়েছে।” তাঁর এই আক্ষেপ ভরা মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি ঘাসফুল শিবির ছাড়ার মনস্থির করে ফেলেছেন সাংসদ?
খবরের মূল হাইলাইটস:
- বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা: তৃণমূলের মঞ্চ বা দলের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় রচনাকে।
- তৃণমূলে অস্বস্তি: খোদ দলের সাংসদের মুখে গেরুয়া শিবিরের এই গুণগান শোনার পর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
- দলত্যাগের জল্পনা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার দাবি, রচনার এই অবস্থান তাঁর দলত্যাগ একপ্রকার নিশ্চিত করছে।
একুশের আগে কি বড় রদবদল? রাজ্য রাজনীতিতে ২১ জুলাই তৃণমূলের কাছে অন্যতম বড় আবেগের দিন। ঠিক তার আগে রচনার মতো হাই-প্রোফাইল সাংসদের এহেন ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান ও বিরোধী শিবিরের নেতাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা করা নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগ বা বিজেপিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করেননি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রবীন্দ্র ভবনের এই অনুষ্ঠান নিছকই কোনও সামাজিক জমায়েত ছিল না, বরং এটি ছিল সাংসদ রচনার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। আগামী দিনে তিনি কোন রাজনৈতিক শিবিরে পা রাখেন, এখন সেটাই দেখার।
