রকস্টারের সেই নিথর দেহ আজও ভুলতে পারছেন না জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় – এবেলা

রকস্টারের সেই নিথর দেহ আজও ভুলতে পারছেন না জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সঙ্গীতজগতে কৃষ্ণকুমার কুন্নথ ওরফে কেকে এক অবিস্মরণীয় নাম। ২০২২ সালের ৩১ মে কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে এসে আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে এই জনপ্রিয় বলিউড গায়কের। সময়ের নিয়মে চার বছর পার হয়ে গেলেও তাঁর এই অকালমৃত্যু আজও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। কেকের চতুর্থ প্রয়াণ দিবসে আবেগঘন স্মৃতিচারণায় মেতে উঠেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে একটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বন্ধুত্ব সময়ের সাথে সাথে এক গভীর আত্মিক বন্ধনে রূপ নিয়েছিল, যা আজও তাজা জিতের স্মৃতিতে।

হাসিমুখের সেই মাটির মানুষ

জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে অন্ধেরী ইস্টের এক স্টুডিওর কথা। অত্যন্ত সাধারণ পোশাক পরিহিত, প্রাণবন্ত ও হাসিমুখের এক তরুণ সেদিন স্টুডিওতে পা রেখেছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে ভারতীয় সঙ্গীত দুনিয়াকে মাতিয়ে তোলেন। জিতের মতে, কেকে ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব এবং খাঁটি মাটির মানুষ, যাঁর গায়কিতে অন্য কোনো শিল্পীর অনুকরণ ছিল না। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়। ‘সড়ক ২’ চলচ্চিত্রের গান রেকর্ডিংয়ের সময় জিতের অসুস্থ বাবার প্রতি কেকের সংবেদনশীলতা এবং বন্ধুকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার ঘটনাটি তাঁদের বন্ধুত্বের গভীরতাকেই প্রমাণ করে।

কলকাতার সেই অভিশপ্ত রাত ও অন্তিম মুহূর্ত

মৃত্যুর মাত্র দু’দিন আগেও কলকাতায় অনুষ্ঠান এবং নতুন গানের মুক্তি নিয়ে জিতের সঙ্গে কথা হয়েছিল কেকের। কিন্তু ৩১ মে-র সেই রাত সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। কলকাতার এক হাসপাতালে যখন জিৎ ও তাঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী পৌঁছান, তখন সেখানে শুয়ে ছিল কেকের নিথর দেহ। জিনের প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত সেই দেহ দেখে জিতের মনে হয়েছিল, যেন এক রকস্টার মঞ্চে ওঠার আগে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছেন। প্রিয় বন্ধুর সেই আকস্মিক চলে যাওয়া শুধু সঙ্গীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং তাঁর কাছের মানুষদের বুকে এক চিরস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দিয়ে গেছে, যা বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সমাদরে থেকে যাবে স্মৃতির মণিকোঠায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *