রকেটের গতিতে উত্থান আর মর্মান্তিক পতন, যুবরাজ অভিষেক আজ কেন জনরোষের মুখে! – এবেলা

রকেটের গতিতে উত্থান আর মর্মান্তিক পতন, যুবরাজ অভিষেক আজ কেন জনরোষের মুখে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বঙ্গ রাজনীতির একসময়ের দাপুটে নেতা ও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। মাস খানেক আগেও যিনি দলের অঘোষিত ‘যুবরাজ’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তিনি একাধিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং প্রবল জনরোষের মুখে। পথেঘাটে বেরোলেই তাঁকে সাধারণ মানুষের কটাক্ষ ও ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে, এমনকী পচা ডিম পর্যন্ত ধেয়ে আসছে তাঁর দিকে।

বিনা লড়াইয়ে ক্ষমতা লাভ ও দলের কর্পোরেট রূপ

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া অভিষেকের ছাত্ররাজনীতির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০০৯ সালে এমবিএ শেষ করার পর, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরই মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে। সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো কোনো তৃণমূল স্তরের লড়াই ছাড়াই তাঁকে সরাসরি ‘তৃণমূল যুবা’-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবার থেকে সাংসদ হওয়ার পর তাঁর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে। তাঁর নির্দেশেই তৃণমূল ধীরে ধীরে কর্পোরেট রূপ নেয়। ফলস্বরূপ, দলের পুরনো ও আদি নেতারা কোণঠাসা হয়ে মুকুল বা শুভেন্দুর মতো নেতারা একে একে দল ছাড়তে বাধ্য হন, যা অভিষেকের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

দুর্নীতির অভিযোগ ও পতনের প্রভাব

একুশ এবং চব্বিশের নির্বাচনে বিপুল জয় অভিষেকের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেও, পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পত্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রবল হতে থাকে। ভাইপোর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘অন্ধস্নেহ’ শীর্ষ নেতৃত্বকে মাটি থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং আমজনতার মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি দেখা যায় ছাব্বিশের ভোটবাক্সে। ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পিসির ছত্রছায়া ছাড়া অভিষেকের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক ক্যারিশমা ছিল না। এই নাটকীয় পতন শুধু অভিষেকের রাজনৈতিক আধিপত্যই ধুলিসাৎ করেনি, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চরম কোণঠাসা করে ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *