রবিবার থেকে শুরু কবি সুভাষ স্টেশন ভাঙার কাজ, অবশেষে গতি পাচ্ছে কলকাতার আটকে থাকা ৫ মেট্রো প্রকল্প – এবেলা

রবিবার থেকে শুরু কবি সুভাষ স্টেশন ভাঙার কাজ, অবশেষে গতি পাচ্ছে কলকাতার আটকে থাকা ৫ মেট্রো প্রকল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর-দক্ষিণ করিডর বা ‘ব্লু লাইন’-এর কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশনে বহু প্রতীক্ষিত ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে চলেছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন ও শক্তিশালী নকশায় তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি না থাকে। গত বছরের জুলাই মাসে এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের স্তম্ভে ফাটল ধরা পড়ার পর থেকেই এখানে বাণিজ্যিক পরিষেবা বন্ধ ছিল। বর্তমানে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনকে প্রান্তিক স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হলেও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যা সামাল দিতে ১৭ মে থেকে ভাঙার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শেষ হতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর নতুন কাঠামো নির্মাণে আরও ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগবে।

পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি ও পরিকাঠামোগত বদল

মেট্রো সূত্রের খবর, ভাঙার কাজ চলাকালীন পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে একটি নতুন ‘রেক-রিভার্সাল পয়েন্ট’ বা ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। সিগন্যালিং ব্যবস্থাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকেই কবি সুভাষ স্টেশনে কাঠামোগত দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে আরও বাড়ে। এবার অতিরিক্ত পাইল ও স্তম্ভ বসিয়ে গোটা কাঠামোকে আরও নিরাপদ করা হবে। স্টেশনটি ব্লু ও অরেঞ্জ লাইনের সংযোগস্থল এবং শহরতলি রেলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই পুনর্निर्माण কাজ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে, পার্পল লাইনের এসপ্ল্যানেড স্টেশন নির্মাণের ক্ষেত্রে বি সি রায় মার্কেটকে ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তাও দ্রুত কাটার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বাজেট বরাদ্দ ও আধুনিকীকরণের ভবিষ্যৎ প্রভাব

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে। অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি, পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি এবং গ্রিন লাইনের জন্য ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। এই বিপুল অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বৌবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত পর্যন্ত ইয়েলো লাইনের সম্প্রসারণের প্রস্তাবও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ব্লু লাইনে আধুনিক ‘কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল’ বা সিবিটিসি ব্যবস্থা চালুর অনুমোদন মেলায় ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে। এতদিন প্রশাসনিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন ছাড়পত্রের অভাবে কাজ আটকে থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব জট কেটে কলকাতার মেট্রো প্রকল্পগুলো নতুন গতি পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *