রাজভবনের নির্দেশে পদ হারালেন মমতা, তাও সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে লিখছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ – এবেলা

রাজভবনের নির্দেশে পদ হারালেন মমতা, তাও সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে লিখছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জনতার রায় বিপক্ষে গেলেও ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফলাফলকে চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবি বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পরিচয় ত্যাগ করতে নারাজ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিবর্তিত পরিচয়

সাংবিধানিকভাবে বর্তমানে রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রী না থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতে এখনও ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়টি উজ্জ্বল। রাজ্যপালের নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টা পার হতে চললেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের বায়ো বা পরিচয় সংশোধন করেননি তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি সাংবিধানিক রীতিনীতির অবমাননা এবং প্রশাসনিক একগুঁয়েমির বহিঃপ্রকাশ।

গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন ও প্রভাব

২০১১ সালের পালাবদলের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফলাফল প্রকাশের পরপরই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের অনন্য নজির গড়েছিলেন। তার বিপরীতে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক, তবুও তিনি পদ ছাড়বেন না। এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনের উচ্চস্তরে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • নির্বাচনের রায় বিপক্ষে যাওয়ার পরেও ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
  • পদচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও নিজেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী।
  • এই ঘটনায় রাজ্যে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *