রাজ্যজুড়ে পুলিশের মেগা অপারেশন! অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তোলাবাজি রুখতে ৫ দফা কড়া নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত করতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত ১২ মে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার (কলকাতা ব্যতীত), জেলা পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ে পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে ৫ দফা সংবলিত একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন। মূলত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলা খতিয়ে দেখা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই কড়া অবস্থান প্রশাসনের।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পুরনো মামলার পুনর্বিবেচনা
নির্দেশিকা অনুযায়ী, থানার মালখানায় মজুত থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ মে-র মধ্যে আইসি বা ওসিদের সশরীরে উপস্থিত থেকে রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৬ মে থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলবে। শুধু অস্ত্র উদ্ধারই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার যেসব মামলায় ইতিপূর্বে ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়েছিল, সেগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো শিথিলতা পাওয়া গেলে মামলা পুনরায় চালু করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত অপরাধ ও তোলাবাজি দমনে জিরো টলারেন্স
সীমান্তবর্তী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এখন থেকে থানা স্তরে প্রতি মাসে এবং এসডিপিও স্তরে প্রতি তিন মাসে অপরাধীদের তালিকা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করতে হবে। এছাড়া, অবৈধ গবাদি পশুর হাট, কসাইখানা এবং বেআইনি খনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১৪’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে যেন বৈধ ব্যবসায়ীরা স্থানীয় দুষ্কৃতী বা তোলাবাজদের দ্বারা হয়রানির শিকার না হন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি
রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হবে এবং এডিজি (ট্রাফিক) নিয়মিতভাবে এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সামগ্রিক এই ৫ দফা কার্যক্রম সরাসরি পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের নিয়মিত রিপোর্ট এডিজি (সিআইডি)-র কাছে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ নামিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
