রাজ্যে কার্যকর হবেই UCC! ক্ষমতা দখল করেই বড় ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বাস্তবায়ন নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। তবে এর সময়সীমা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সরকার ও দলের পার্থক্য এবং জনসংখ্যা নীতি
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে জানান, সরকার এবং দলকে এক করে দেখা সমীচীন নয়। তাঁর কথায়, “এটি শুধুমাত্র বিজেপির সরকার নয়, এটি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের সরকার।” তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে পরিচালিত হবে। এরই সঙ্গে তিনি জনসংখ্যার ভারসাম্যের প্রশ্নে কড়া বার্তা দেন। সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার যে অত্যন্ত সতর্ক, তা বোঝাতে তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আদিবাসী কল্যাণে ‘প্রধানমন্ত্রী জনমন যোজনা’র সফল রূপায়ণের লক্ষ্যও স্থির করেছে নবগঠিত এই সরকার।
রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ভোট-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। শমীকের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তাঁর অভিযোগ, গণনার পর অনেক তৃণমূল কর্মী রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন, যাদের তিনি ‘ইনস্ট্যান্ট বিজেপি’ বলে অভিহিত করেন। এই ধরনের ব্যক্তিদের দ্বারা কোনো অরাজকতা সৃষ্টি হলে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বর্তমানে দলে নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে, এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে রাজনৈতিক ষড়যজন্ত্র হিসেবে দেখছে বিরোধী শিবিরে বসা তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাটে সাংসদদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির কারণেই বাংলা আজ উত্তপ্ত। সব মিলিয়ে উচ্ছেদ, নতুন আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক দোষারোপের ফলে বাংলার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
