রেললাইন থেকে নতুন জীবন ফিরে পাওয়া তরুণী, ৮ বছর পর বাবার মর্যাদা দিলেন রিকশাচালক বাবলুকে – এবেলা

রেললাইন থেকে নতুন জীবন ফিরে পাওয়া তরুণী, ৮ বছর পর বাবার মর্যাদা দিলেন রিকশাচালক বাবলুকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মানুষের জীবনে মাঝেমধ্যে এমন কিছু মানুষ দেবদূতের মতো হাজির হন, যারা কোনো স্বার্থ ছাড়াই বদলে দেন অন্যের জীবন। ঠিক এমনই এক মানবিক ও আবেগঘন ঘটনার সাক্ষী হলেন রিকশাচালক বাবলু এবং একজন নারী চিকিৎসক। আট বছর আগের এক চরম মুহূর্তের ঋণ আজ এক অনন্য আত্মিক সম্পর্কের জন্ম দিয়েছে।

আত্মহত্যার মুখ থেকে ফিরে আসা সেই দিন
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল আট বছর আগে। বাবলু পেশায় একজন সাধারণ রিকশাচালক, যিনি কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালান। একদিন এক ব্যক্তি তার মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাবলুর রিকশায় তুলে দেন। রিকশা কিছু দূর যাওয়ার পরই হঠাৎ মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং চলন্ত রিকশা থেকে নেমে রেললাইনের দিকে দৌড়াতে শুরু করে। বাবলু বুঝতে পারেন মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিতে চাইছে। নিজের দায়িত্ব ও মানবিকতা থেকে তিনি মেয়েটির পিছু নেন।

রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে অনেক বুঝিয়ে এবং জীবনের গুরুত্ব বুঝিয়ে বাবলু তাকে সরিয়ে আনেন। সেই সময় মেয়েটি বাবলুকে অত্যন্ত কটু কথা শুনিয়েছিল এবং তাকে ‘অশিক্ষিত’ ও ‘মনহুল’ বলে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজের অপমান গায়ে না মেখে বাবলু শুধু মেয়েটির নিরাপদ বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করেছিলেন।

নিয়তির খেলা ও হাসপাতালের সেই দৃশ্য
সময়ের পরিক্রমায় আটটি বছর কেটে গেছে। বাবলু ভুলেই গিয়েছিলেন সেই মেয়েটির কথা। সম্প্রতি এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন বাবলু। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর বাবলু দেখেন একজন নারী চিকিৎসক পরম মমতায় তার চিকিৎসা করছেন। নাটকীয়ভাবে এই চিকিৎসক আর কেউ নন, আট বছর আগে সেই রেললাইন থেকে বেঁচে ফেরা কিশোরী।

অপমানের বদলে পরম শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি
হাসপাতালের উপস্থিত লোকজন যখন চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করেন তিনি বাবলুকে চেনেন কি না, তখন তিনি সবার সামনে বাবলুকে নিজের ‘বাবা’ বলে পরিচয় দেন। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, আট বছর আগে বাবলু যদি নিজের জীবন বাজি রেখে এবং অপমান সহ্য করে তাকে রক্ষা না করতেন, তবে আজ তিনি চিকিৎসক হতে পারতেন না। সেদিনের সেই ‘অশিক্ষিত’ রিকশাচালকই আজ তার কাছে জীবনের শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক।

এই ঘটনার পর থেকে তাদের মধ্যে বাবা-মেয়ের এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সমাজকে এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে, মানুষের আসল পরিচয় তার পেশায় নয়, বরং তার কাজ ও সহমর্মিতায়।

এক ঝলকে
ঘটনার সূত্রপাত: আট বছর আগে এক রিকশাচালক এক তরুণীকে রেললাইনে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করেন।
অতীতের আচরণ: প্রাণ বাঁচানোর পর মেয়েটি রিকশাচালককে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি: রিকশাচালক বাবলু দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ওই তরুণী চিকিৎসক হিসেবে তার চিকিৎসা করেন।
পরিণতি: চিকিৎসক তরুণী প্রকাশ্যে রিকশাচালককে নিজের বাবার মর্যাদা দেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সম্পর্ক: বর্তমানে তাদের মধ্যে এক নিবিড় আত্মিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *