লকআপে প্রাক্তন মন্ত্রীর ভিআইপি খাতির, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের তীব্র ক্ষোভ

ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও পুলিশি ব্যবস্থায় কি আদৌ পরিবর্তন এসেছে? মঙ্গলবার আদালত চত্বরে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জন্য কলকাতা পুলিশের বিশেষ ‘ব্যবস্থা’ দেখে এই প্রশ্নই তুললেন আইনজীবীদের একাংশ। অভিযোগ উঠেছে, লকআপের ভেতরে অন্য সাধারণ বন্দিদের মতো নয়, বরং চেয়ারে বসে এবং মাথার ওপর পাখা চালিয়ে রীতিমতো ‘ভিআইপি’ মর্যাদা পাচ্ছিলেন এই হেভিওয়েট নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।
আইনজীবীদের প্রতিবাদ ও পুলিশের ভূমিকা
এ দিন সুজিত বসুর মামলার শুনানি থাকায় তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে আনা হয়েছিল। আইনজীবী সুদীপ্ত রায়ের অভিযোগ, তিনি যখন লকআপের কাছাকাছি যান, তখন এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখতে পান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের কয়েকজন কর্মী সুজিত বসুর জন্য বিশেষ খাতির করছিলেন। একজন অভিযুক্ত হিসেবে সাধারণ বন্দিরা যে পরিবেশে থাকেন, সুজিত বসুর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে তাঁকে চেয়ার ও পাখার সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এই বৈষম্যের প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের ব্যাপক সংঘাত তৈরি হয়।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রভাবের প্রশ্ন
আইনজীবীদের একাংশের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলা হলেও নিচুতলার কিছু পুলিশকর্মী এখনও পুরনো অভ্যাসবশত প্রভাবশালী নেতাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন। পুলিশের এই আচরণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে একজন বন্দিকে লকআপে রাখার চিরাচরিত নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন ‘জামাই আদর’ আদালত চত্বরে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
এই সংঘাতের ফলে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে, জেল ও লকআপে বন্দিদের সমানাধিকার বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রভাবশালী অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে পুলিশের এই নমনীয় মনোভাব আগামী দিনে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সোমবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মঙ্গলবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে আদালতে তোলা হলেও, শুনানির আগেই এই বিতর্ক আইনি মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
