“লাঠি আনলে আমরা শরবত দেব”, ভোট লুঠ রুখতে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক শমীকের

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘ভোট লুঠ’-এর পরিকল্পনার অভিযোগ তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গণনার দিন শাসকদল অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করতে পারে, যা রুখতে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে একজোট হতে হবে।
তৃণমূলকে আক্রমণ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, গণনায় কারচুপি বা প্রভাব খাটানোর জন্য তৃণমূল আইনি পথে লড়াই করলেও সুপ্রিম কোর্টে তাদের হার হয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল ভোট লুঠের অধিকার চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েছিল, কিন্তু সেই আর্জি খারিজ হয়ে গেছে।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো গন্ডগোল করার চেষ্টা করছেন, তবে গণনাকেন্দ্রে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বার্তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বিজেপি এই লড়াইয়ের জবাব দেবে শান্তিপূর্ণভাবে।
শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের বার্তা ও কমিশনের আশ্বাস
গণনাকেন্দ্রে বিরোধীদের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য এক অভিনব স্লোগান দেন। তিনি বলেন, “ওরা পতাকার সঙ্গে লাঠি আনুক, আমরা ঠান্ডা শরবত নিয়ে যাব। জোরে ঝটকা লাগবে, কিন্তু আস্তে করে।” অর্থাৎ, শাসকদলের কোনো উসকানির মুখে বিজেপি কর্মীরা যেন প্ররোচিত না হয়ে ধৈর্য ধরে গণনার কাজ সম্পন্ন করেন, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ৪ মে-র গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অবাধ রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিটি গণনাকেন্দ্র এখন দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় মোড়া। কমিশনের দাবি, কোথাও কোনো অশান্তির অবকাশ রাখা হয়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই বাংলার জনমত প্রতিফলিত হবে। সব মিলিয়ে, গণনার আগের রাতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাগযুদ্ধ রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
