শান্তিনিকেতনে নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় ফুঁসছে বীরভূম, কাঠগড়ায় ‘কাকু’ সম্বোধিত পরিচিতরাই – এবেলা

শান্তিনিকেতনে নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় ফুঁসছে বীরভূম, কাঠগড়ায় ‘কাকু’ সম্বোধিত পরিচিতরাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের মহিদাপুর এলাকায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে। একটি হোমে আশ্রিতা ওই কিশোরীর ওপর এই বর্বরতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জানাজানি হতেই গোটা বীরভূম জেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

আর্তনাদ উপেক্ষা করে লালসার শিকার

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতিতা যে জবানবন্দি দিয়েছে, তা শুনে শিউরে উঠছেন স্থানীয় মানুষ। নাবালিকার দাবি, অভিযুক্তরা ছিল তার অত্যন্ত পরিচিত এবং সে তাদের ‘কাকু’ বলে ডাকত। নিগ্রহের সময় সে বারবার অভিযুক্তদের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে বলেছিল, “আমি তোমাদের মেয়ের মতো, আমাকে ছেড়ে দাও।” কিন্তু সেই আর্তি কানে তোলেনি তারা। বিশ্বাসের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এই পাশবিক অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সমাজ ও নিরাপত্তার সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকায় ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

এই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিনিকেতন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত গ্রামবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ক্ষুব্ধ জনতা অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে থানা ঘেরাও করেন। স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন যদি জড়িতদের আইনের আওতায় না আনতে পারে, তবে আরও বড় আন্দোলনের পথে নামবেন তারা।

তদন্তে তৎপর পুলিশ প্রশাসন

ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে বীরভূম জেলা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই মামলার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্যাতিতার মানসিক ট্রমা কাটাতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত পাকড়াও করতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এক ঝলকে

  • শান্তিনিকেতনের মহিদাপুরের একটি হোমে আশ্রিতা নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ।
  • অভিযুক্তরা নির্যাতিতার পূর্বপরিচিত এবং তাকে মেয়ে বলে সম্বোধন করত।
  • বিচারের দাবিতে উত্তাল শান্তিনিকেতন থানা এলাকা, ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা বেঁধে দিয়েছে জনতা।
  • নির্যাতিতা কিশোরী বর্তমানে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অভিযুক্তদের খোঁজে শুরু হয়েছে পুলিশি তল্লাশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *