শান্তির আবহে ভোট ভাঙড়ে! ৫০ হাজারের ব্যবধানে জয়ের হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ নওশাদের – এবেলা

শান্তির আবহে ভোট ভাঙড়ে! ৫০ হাজারের ব্যবধানে জয়ের হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ নওশাদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভাঙড় মানেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আর বোমাবাজি— বছরের পর বছর ধরে চলা এই চেনা ছবিটাই বদলে গেল চলতি নির্বাচনে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট দিল ভাঙড়। বুধবার দিনভর এই বিধানসভা কেন্দ্রের চিত্র ছিল আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত। বোমা বা গুলির শব্দ ছাড়াই ভাঙড়ের মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা বিগত কয়েক বছরের ইতিহাসে কার্যত বিরল ঘটনা। মূলত নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তাই এই শান্তি নিশ্চিত করেছে।

নওশাদের কটাক্ষ ও জয়ের দাবি

শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এদিন বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, অবাধ ভোট হওয়ায় এবার জয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নওশাদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বিগত নির্বাচনের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে এবার তিনি ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে নিয়ে যে আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রভাব না পড়ায় খুশি আইএসএফ শিবির।

সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও প্রশাসনের ভূমিকা

হাতিশালা হাই মাদ্রাসার মতো এলাকাগুলোতে দেখা গিয়েছে এক অন্যরকম দৃশ্য। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর তারা ভোট দিতে পারেননি, যা এবার সম্ভব হয়েছে। জনগণের এই মেজাজকে ‘আসল ভাঙড়’ বলে অভিহিত করেছেন নওশাদ। তিনি একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন, তেমনই শাসকদলের কর্মীদের একটি অংশের ‘ইতিবাচক’ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে পরক্ষণেই কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, কিছু অসাধু রাজনীতিক নিজেদের স্বার্থে ভাঙড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করলেও মানুষ এবার তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এক ঝলকে

  • দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে কোনো বড়সড় সংঘর্ষ বা বোমাবাজি ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হয়েছে।
  • ভোট শেষে নওশাদ সিদ্দিকি ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে নিজের জয়ের দাবি করেছেন।
  • ১০-১৫ বছর পর বহু মানুষ ভোট দিতে পেরে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
  • কড়া নিরাপত্তা ও বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই এলাকায় শান্তি বজায় রাখার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *