শিক্ষকের সাথে পালালো ছাত্রী, ছেলের বাড়ির দম্ভ! আমার ছেলে তোর মেয়েকে নিয়ে গেছে, যা করার করে নে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পবিত্র শিক্ষক-ছাত্রী সম্পর্কের অমর্যাদা ঘটিয়ে বিহারের ভাগলপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পীরপৈঁতি থানার শেরমারি গ্রামের এক শিক্ষক তাঁরই আঠারো বছর বয়সী ছাত্রীকে নিয়ে চম্পট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। জানা গেছে, ইন্টার পাস করা ওই ছাত্রী নিয়মিত ওই শিক্ষকের কাছে কোচিং পড়তে যেতেন। প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত রাতে পরিবারের সদস্যরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই শিক্ষকের হাত ধরে ঘর ছাড়েন ওই তরুণী। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিস্ময়কর পারিবারিক দম্ভ ও পুলিশের ভূমিকা
সাধারণত সন্তান কাউকে নিয়ে পালিয়ে গেলে মা-বাবার মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উলটো। নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার যখন ওই শিক্ষকের বাড়িতে হানা দেয়, তখন শিক্ষকের বাবা অপরাধ স্বীকার করা তো দূর অস্ত, উলটে দম্ভোক্তি করে বসেন। অভিযোগকারী পিতার দাবি অনুযায়ী, শিক্ষকের বাবা তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমার ছেলেই তোমার মেয়েকে নিয়ে গেছে, যা করার করে নাও!” ছেলের পরিবারের এমন ঔদ্ধত্যে হতবাক মেয়ের বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি পীরপৈঁতি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
তদন্ত ও আইনি জটিলতা
ইতিমধ্যেই ওই শিক্ষক এবং তাঁর বাবার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিক্ষক ও ছাত্রীর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর বলে জানা গেলেও, তাঁর জন্মপরিচয় সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগতভাবে ছাত্রী যদি সাবালিকা হন এবং স্বেচ্ছায় প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিচারপ্রক্রিয়া ভিন্ন পথে মোড় নিতে পারে। তবে শিক্ষকের বাবার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এই মামলাকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে আরও জটিল করে তুলেছে।
এক ঝলকে
- ভাগলপুরের শেরমারি গ্রামে কোচিং শিক্ষকের হাত ধরে পালিয়েছেন তাঁরই ১৮ বছর বয়সী ছাত্রী।
- অভিযুক্ত শিক্ষকের বাবা ছাত্রীর পরিবারকে শাসিয়ে বলেন, যা করার করে নিতে।
- ক্ষুব্ধ পরিবার শিক্ষক ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন।
- ছাত্রী ও শিক্ষকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পীরপৈঁতি থানার পুলিশ।
