শিশুদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল প্রবীণেরা, জন্মহার কমায় ঘনিয়ে আসছে বিশ্বব্যাপী মানব সংকট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই প্রথমবার এক অভূতপূর্ব ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৫ বছর বা তার কম বয়সি শিশুদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের সংখ্যা। বিশ্ব জনসংখ্যার এই দ্রুত বার্ধক্যের মূল কারণ হিসেবে রয়েছে বিশ্বব্যাপী জন্মহারের লাগাতার পতন এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৮৫.২ কোটিতে দাঁড়ালেও, ২০৬০ সালের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাবে। চিন ও ভারতের মতো জনবহুল দেশগুলোতেও জন্মহার জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় স্তর (প্রতি নারীপ্রতি ২.১ শিশু) বা প্রতিস্থাপন হারের নিচে নেমে গেছে। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭১ শতাংশ মানুষ এমন সব দেশে বসবাস করছেন যেখানে জন্মহার এই নিরাপদ সীমার নিচে রয়েছে, অথচ এক দশক আগে এই হার ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ।
আগামী দশকগুলোতে এশিয়া ও আফ্রিকায় প্রবীণ জনসংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে এশিয়ায় ৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ২০২৫ সালের ৪৮.৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০৬০ সালের মধ্যে প্রায় ১২৪ কোটিতে পৌঁছাবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘প্রজনন ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে নতুন প্রজন্ম পুরোনো প্রজন্মকে সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারছে না।
জনসংখ্যার এই অস্বাভাবিক ভারসাম্যহীনতা সমাজ, বিশ্ব অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে। কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে এবং তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘায়ুকে কেবল আর্থিক বোঝা হিসেবে না দেখে সঠিক নীতি ও বয়স-উপযোগী কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রবীণ সমাজকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
