শীর্ষে থাকা গুজরাতকে উড়িয়ে আইপিএলের প্লে অফের রেসে টিকে রইল কলকাতা – এবেলা

শীর্ষে থাকা গুজরাতকে উড়িয়ে আইপিএলের প্লে অফের রেসে টিকে রইল কলকাতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চলতি আইপিএলে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স। লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা শক্তিশালী গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৩০ রানের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে অজিঙ্কা রাহানের দল। কলকাতার ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের এক বিশাল স্কোর খাড়া করে। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে মরিয়া লড়াই চালালেও ২১৮ রানেই থমকে যায় গুজরাত টাইটান্সের ইনিংস। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে নক-আউটের সমীকরণ জমিয়ে তুলল নাইটরা।

অ্যালেন ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ল গুজরাত

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় কলকাতার বিধ্বংসী ব্যাটিং, যার মূল কারিগর ছিলেন ওপেনার ফিন অ্যালেন। তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে সঙ্গে নিয়ে গুজরাত বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান তিনি। ব্যক্তিগত ৩৩ রানের মাথায় জীবনদান পেয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন অ্যালেন। চলতি মরসুমে নিজের দ্বিতীয় শতরানের দোরগোড়া থেকে ফিরে এলেও, আউট হওয়ার আগে খেলেন ১০টি ছক্কা ও ৪টি চারে সাজানো এক বিস্ফোরক ইনিংস। আইপিএলের ইতিহাসে ক্রিস গেল, অভিষেক শর্মাদের পাশে যৌথভাবে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এক ইনিংসে একাধিকবার ১০ বা তার বেশি ছক্কা মারার নজির গড়লেন এই কিউই তারকা। একইসঙ্গে কেকেআরের ইতিহাসে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও আন্দ্রে রাসেলের পর এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর তালিকায় তিনে জায়গা করে নিলেন তিনি।

গিল-বাটলারের লড়াই থামালেন নারিন

২৪৮ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল গুজরাত টাইটান্স। ওপেনার সাই সুদর্শন ২৩ রানে আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও জস বাটলার। এই জুটি দ্বিতীয় উইকেটে ১২৮ রান যোগ করে গুজরাতকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। শুভমান গিল মাত্র ৪৯ বলে ৫টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৮৫ রানের একটি অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। তবে কেকেআরের অভিজ্ঞ স্পিনার সুনীল নারিন এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙতেই গুজরাতের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। বড় শট মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গিল। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানেই থামে টেবিল টপারদের লড়াই।

প্লে অফের সমীকরণ ও প্রভাব

এই ম্যাচের জয় কলকাতার জন্য ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। বৃষ্টি বা হারের কারণে পয়েন্ট নষ্ট হলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল রাহানেদের। এই জয়ের ফলে কেকেআর কেবল মহামূল্যবান ২ পয়েন্টই পেল না, সেই সঙ্গে দলের নেট রান রেটও অনেকটাই বাড়িয়ে নিল। অন্যদিকে, গুজরাত টাইটান্স শীর্ষে থাকলেও এই হারের ফলে তাদের ডিফেন্সের কিছু দুর্বলতা, বিশেষ করে ডেথ ওভারের বোলিং ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়ে গেল। ম্যাচের এই ফলাফল আগামী ম্যাচগুলোতে প্লে অফের টিকিট পাওয়ার লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *