শুভেন্দু কি পারবেন বাংলার ‘হিমন্ত’ হতে? আসামের সেই সফল ফর্মুলা কি কাজ করবে এ রাজ্যে?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন সবথেকে আলোচিত নাম সুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের বিশ্বস্ত এই সেনাপতি যেভাবে তৃণমূলের ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়ে বিজেপির উত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে অনেকেই তাঁর মধ্যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ছায়া দেখছেন। ঠিক দশ বছর আগে ২০১৬ সালে হিমন্ত যেভাবে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিকে আসামে ক্ষমতায় এনেছিলেন, ২০২৬ সালে সুভেন্দুও বাংলায় প্রায় একই চিত্রনাট্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক কৌশলে মিল ও সাফল্যের রসায়ন
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং সুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের গতিপথ আশ্চর্যজনকভাবে সমান্তরাল। দুজনেই আরএসএস ঘরানার বাইরে থেকে এসে বিজেপির কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন সুভেন্দু অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে যে জোরালো সওয়াল করেছেন, তা হিমন্তের আগ্রাসী রাজনৈতিক কৌশলেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তৃণমূলের আধিপত্য খর্ব করতে তাঁর রণকৌশল বিজেপিকে বড়সড় অক্সিজেন দিয়েছে।
নেতৃত্বের পরীক্ষা ও আগামীর সমীকরণ
তবে প্রশ্ন উঠছে, সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে সুভেন্দু কি হিমন্তের মতো মসনদ পাবেন? উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আসামে জয়ের কারিগর হওয়া সত্ত্বেও হিমন্তকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং সর্বানন্দ সোনোয়ালের অধীনে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়েছিল। সুভেন্দুর ক্ষেত্রেও দল একই নীতি গ্রহণ করবে নাকি সরাসরি তাঁকে বড় দায়িত্ব দেবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনুপ্রবেশ রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি যেভাবে মমতার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তাতে পূর্ব ভারতে বিজেপির পোস্টার বয় হিসেবে তাঁর অবস্থান এখন অত্যন্ত সুদৃঢ়।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল ও সুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক চর্চা।
- আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতোই তৃণমূল ছেড়ে আসা সুভেন্দু অধিকারীকে বঙ্গ বিজেপির প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অনুপ্রবেশ ঠেকানো ও শরণার্থীদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে তাঁর কঠোর অবস্থান দলের ভোট বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
- হিমন্তের মতো সুভেন্দুও ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য রাজনীতিতে আরও শক্তিশালী পদ পাবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
