‘সংসদে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, মহিলাদের বসতে অস্বস্তি হয়!’ কল্যাণের বহিষ্কার চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির – এবেলা

‘সংসদে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, মহিলাদের বসতে অস্বস্তি হয়!’ কল্যাণের বহিষ্কার চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: লোকসভার অন্দরে মহিলা সাংসদদের প্রতি ‘আপত্তিকর ও আসাম্মানজনক’ মন্তব্য করার অভিযোগে এবার দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলে সরাসরি স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ।

স্পিকারকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ এনে লিখেছেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। সংসদের ভেতরে তিনি এমন সব নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা বলেন, যা শোনার পর সেখানে উপস্থিত থাকতে মহিলা সাংসদরা চরম অস্বস্তিবোধ করেন।” তাঁর দাবি, কল্যাণের এই আচরণ সম্পূর্ণ সংসদীয় রীতিনীতি ও লোকসভার ৩৪৯ ধারার পরিপন্থী। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, সংসদের অন্যান্য মহিলা সাংসদদেরও কল্যাণবাবু একাধিকবার হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কাকলি।

পাল্টা তোপ কল্যাণের, মনে করালেন ‘নারদ ও সিন্ডিকেট’ কাণ্ড:

তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই জোরালো আক্রমণকে একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক (চিফ হুইপ) পদে ছিলাম। কয়েকমাস মাঝে শুধু ছিলাম না। উনি কীভাবে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের কথা বলছেন?” এখানেই শেষ নয়, কাকলিকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে ‘নারদ’ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে তীব্র খোঁচা দিতেও ছাড়েননি কল্যাণ।

উল্লেখ্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একই ইস্যুতে কল্যাণের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের পর তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট সাংসদের এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিদ্রোহ যে সংসদের অলিন্দে ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি চরম মাত্রায় বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *