সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, বাতিল হতে পারে বহু বিধায়কের সদস্যপদ! – এবেলা

সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, বাতিল হতে পারে বহু বিধায়কের সদস্যপদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জমা দেওয়া স্বাক্ষর সম্বলিত নথি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে তৃণমূল পরিষদীয় দল যে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিল, তার অধিকাংশ স্বাক্ষর জাল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডি তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছেছেন সিআইডি আধিকারিকরা। এই তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ভাগ্য।

বিধায়ক পদ বাতিলের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রভাব

আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, বিধানসভায় জমা দেওয়া নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার মতো চরম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিরোধী দলের স্বীকৃতি না পাওয়ায় তৃণমূল পরিষদীয় দল বিধানসভায় বসার জন্য কোনো ঘরও বরাদ্দ পাচ্ছে না, অথচ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই সুবিধা পেতে চলেছে। বিজেপির তরফ থেকে এই ঘটনার কঠোর নিন্দা করে একে রাজ্যের বিধানসভার ইতিহাসে অভূতপূর্ব ও গুরুতর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ঘটনার গভীরে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, সরকারি নথি ও বিধানসভার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো বিষয়টি প্রশাসনিক অন্দরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। সিআইডি তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা যেমন সামনে আসবে, তেমনই ভবিষ্যতে জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতার প্রশ্নেও এটি একটি বড় নজির হয়ে থাকবে। আপাতত গোটা বিষয়টি আদালতের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মতো করেই বিধানসভার অন্দরে গুরুত্ব পাচ্ছে, যার প্রভাব আগামী বাজেট অধিবেশনে তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর পড়তে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *