আমেরিকার আসল বন্ধু পাকিস্তানই, সেনাপ্রধান মুনিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রধান হেগসেথ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর ফের কাছাকাছি এসেছে আমেরিকা ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এবার ইসলামাবাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানকে আমেরিকার “আসল বন্ধু” বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
পাক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা ও ট্রাম্পের ভূমিকা
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে একটি প্রকৃত ও মজবুত বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের এই উষ্ণ সম্পর্ককে অনেকেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় চমক হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা দূর করে শান্তি স্থাপনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন হেগসেথ।
উপমহাদেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা ও দিল্লির অবস্থান
ভারত ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পরমাণু শক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই দুই দেশের কোনোটিকেই নিজেদের জন্য হুমকি মনে করে না। উভয় দেশই নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাই তারা নিজেদের কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। তবে পাকিস্তানের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন হেগসেথ। নতুন দিল্লিকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি “গুরুত্বপূর্ণ নোঙর” হিসেবে বর্ণনা করে ভারতের সামরিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রধান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থান আসলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখার একটি সুকৌশলী প্রয়াস। একদিকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানো, অন্যদিকে এশীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য রুখতে ভারতকে প্রধান অংশীদার হিসেবে ধরে রাখাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। এর ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।
