সকালে ঘুম থেকে উঠেই কি ব্রাশ করার ভুল করছেন আপনিও? কেন এটি দাঁতের জন্য বিপজ্জনক, জানালেন বিশেষজ্ঞ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দাঁতের সুরক্ষা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য দিনে দু’বার ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন দন্তচিকিৎসকরা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরেই ব্রাশ করার অভ্যাসে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। বিশেষ করে যারা রাতে নিয়মিত ব্রাশ করে ঘুমান, তাদের জন্য সকালে খালি পেটে ব্রাশ করা নিষ্প্রয়োজন হতে পারে।
সকালের টিফিনর পর ব্রাশ কেন জরুরি
বিখ্যাত দন্ত বিশেষজ্ঞ ডঃ সন্দেশ মায়েকর জানিয়েছেন, রাতে ব্রাশ করে ঘুমানোর পর সকালে ব্রাশ করার চেয়ে টিফিনর পর ব্রাশ করা অনেক বেশি কার্যকর। আমরা টিফিনয় যেসব খাবার খাই, তার অবশিষ্টাংশ দাঁতের ফাঁকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে পারে। এই দীর্ঘ সময় খাবার জমে থাকলে তা দাঁতের এনামেলের মারাত্মক ক্ষতি করে। টিফিন করার পর ব্রাশ করলে মুখ গহ্বর থেকে খাবারের কণা ও প্লাক সহজেই দূর করা সম্ভব হয়।
এনামেল সুরক্ষা ও ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ
সকালে টিফিনর খাবারে অনেক সময় অ্যাসিডিক উপাদান থাকে যা দাঁতের এনামেলকে সাময়িকভাবে নরম করে দেয়। টিফিনর পর ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়, যা ক্যাভিটি বা ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। এছাড়া রাতে ব্রাশ করার পর মুখ গহ্বরে কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া জন্মায় যা শরীরের জন্য উপকারী; সকালে সরাসরি ব্রাশ করলে সেই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাই দাঁতের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতায় ব্রাশ করার সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক ঝলকে
- রাতে ব্রাশ করে ঘুমালে সকালে ওঠার ঠিক পরেই আবার ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই।
- টিফিনর পর ব্রাশ করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ক্ষতিকর খাবার ও প্লাক দ্রুত পরিষ্কার হয়।
- সঠিক নিয়মে অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে দাঁতের সব দিক ও জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত।
- টিফিনর পর ব্রাশ করার ফলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এবং এনামেল সুরক্ষিত থাকে।
