সন্তানহারা দুই মায়ের কান্না এবার শুভেন্দুর দরবারে! নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

সন্তানহারা দুই মায়ের কান্না এবার শুভেন্দুর দরবারে! নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে বিজেপি সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে শনিবার এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত এই দরবারে হাজির হলেন সন্তান হারানো দুই মা। একজন বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে দুর্ঘটনায় মৃত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা, এবং অন্যজন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা। দুজনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

স্কুলের গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ আয়ুষের মায়ের:

গত ২৪ মে মৃত্যু হয় আট বছরের স্কুলছাত্র আয়ুষকুমার নাথের। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টে অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হয় সে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন আয়ুষের মা। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

‘থ্রেট কালচার’-এর শিকার অমর্ত্য, সিআইডি তদন্তে অসন্তোষ:

২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের কয়েক মাস আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের। পরিবারের অভিযোগ, অমর্ত্য ওই হাসপাতালের ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির শিকার হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও তার গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট পরিবার। এদিন অমর্ত্যের মা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর জানান, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন।

চিকিৎসার খরচ ও বেতন বৃদ্ধির আর্জি:

সন্তানহারা মায়েদের পাশাপাশি এদিন ধাপা মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা করুণা বাউড়িও তাঁর মেয়ের মুখের টিউমারের চিকিৎসার সাহায্যের জন্য দরবারে আসেন। ভেলোরে চিকিৎসা চললেও আর্থিক অনটনে তা বন্ধের মুখে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে আর সাহায্য মিলছে না বলে তাঁর অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মেয়ের চিকিৎসার সব রকম দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়া, আশাকর্মীদের তদারকির দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট টিয়ার সুপারভাইজাররা (FTS) মাত্র সাড়ে ছ’হাজার টাকা ভাতার ক্ষোভ জানিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে হাজির হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *