সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকদের সিন্ধুর জল নয়! পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি রাজনাথের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হায়দরাবাদে আয়োজিত এক কর্মসূচি থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় এবং মানবিকতার শত্রু, তাদের কোনোভাবেই সিন্ধু নদের জল দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্ববর্তী একটি ঘোষণা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হুঁশিয়ারির মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের জিরো-টলারেন্স নীতি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো প্রকার চুক্তি কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না।
সন্ত্রাস ও সিন্ধু চুক্তির টানাপড়েন
২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। চুক্তি অনুযায়ী পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য এবং পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদস্বরূপ ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে এবং চুক্তিটি স্থগিত করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না’ মন্তব্যটি উদ্ধৃত করে রাজনাথ জানান, যাদের চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে, ভারতের কাছ থেকে তাদের জলের আশা করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান একাধিকবার এই নিয়ে নালিশ জানালেও ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাতে কোনো লাভ হয়নি।
সরকারের সাফল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
কূটনৈতিক স্তরে পাকিস্তানের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এনডিএ সরকারের গত ১২ বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন রাজনাথ সিংহ। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলেই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশকে মাওবাদী-মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের এই অনড় অবস্থানের ফলে আগামী দিনে পাকিস্তানের জলসঙ্কট আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা হিসেবে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আরও বেশি কোণঠাসা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
